স্টাফ রিপোর্টার:
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কলমা দাসপাড়া গ্রামে অনৈতিক কাজ সন্দেহে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মহাদেব দাসকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ, আরেকজন পলাতক রয়েছে। নিহত ব্যক্তি নিয়াশা চন্দ্র দাস (৫৭)। তিনি গ্রামটির মনীন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী অসীম দাসের স্ত্রীর ঘরে উঁকি দেওয়ার অভিযোগে তার দেবর মহাদেব সোমবার দিনগত রাত ৩টার দিকে নিয়াশা চন্দ্র দাসকে ডেকে নিয়ে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে তাকে দাসপাড়া হরি সভা মন্দিরের সামনে নিয়ে আসা হয়। এ সময় মহাদেবের সহযোগী মাহবুব তাকে থাপ্পড় দিলে তিনি পাকা সড়কে লুটিয়ে পড়েন। এতে তার মাঠা ফেটে নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকাবাসী মহাদেবকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে অভিযুক্ত মাহবুব ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।
নিহতের বড় মেয়ে উর্মিলা মন্ডল বলেন, “আমার বাবাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এতিম হয়ে গেলাম। আমার বাবা মাছ ধরে সংসার চালাতেন। এখন আমাদের কী হবে? যারা আমার বাবাকে হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই।প্রত্যক্ষদর্শী ধীরেন দাস বলেন, নিয়াশাকে ধরে আনার পর মাহবুব তাকে থাপ্পর দিলে তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়।
প্রবাসী অসীম দাসের স্ত্রী পূজা দাস বলেন, আমার দেবর মহাদেব অনেকদিন ধরে আমাকে বিরক্ত করত । আমার সম্মানহানি করতে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার জন্যই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। যাকে মারা হয়েছে তিনি একজন বয়স্ক মানুষ, আমার বাবার বয়সী। তিনি আমাদের বাড়ির আশপাশেও আসেননি।
লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মহাদেব নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।#

















