রবিবার , ২০ আগস্ট ২০২৩ | ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আরো
  7. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  8. কলাম
  9. কৃষি
  10. খুলনা বিভাগ
  11. খেলাধুলা
  12. গণমাধ্যম
  13. চট্টগ্রাম বিভাগ
  14. জাতীয়
  15. ঢাকা বিভাগ

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের পারফম্যান্স কী নাঈম, আফিফ, শেখ মেহেদী ও শামীম থেকে এগিয়ে নয়?

প্রতিবেদক
সভ্যতার আলো ডেস্ক
আগস্ট ২০, ২০২৩ ৭:৫২ অপরাহ্ণ

 

আবু জাফর আহমেদ মুকুল:

প্রথমে টেস্ট থেকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অবসর, তারপর টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ এবারে এশিয়ার কাপ ওয়ানডে দলে নেই মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। সাম্প্রতিক সময়ে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এশিয়া কাপ দল থেকে বাদ পড়ার কারনে বিভিন্ন ক্রিকেটের সমর্থক তাকে জাতীয় দলে অর্ন্তভুক্ত করার জন্য ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আন্দোলন করছেন। বর্তমান দলে রিয়াদকে বাদ দিয়ে যাদেরকে নেওয়া হয়েছে সেই নাঈম শেখ, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও শামীম পাটোয়ারীকে নেওয়ায় সাবেক ক্রিকেটার ও সমর্থকগন আরোও বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং নির্বাচকগন, টিম ম্যানেজমেন্ট ও বিসিবি নানা ধরনের বিতর্কে পড়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে যা দেশের সার্বিক উন্নয়নে ক্ষতিকর।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বাংলাদেশ দলের নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটারের নাম। যিনি বার বার দলকে খাদের কিনারা থেকে উঠিয়ে বাংলাদেশ দলকে বিজয়ী করেছেন। তিনি ১৬ বছরের আর্ন্তজাতিক ক্যারিয়ারে ৩৮৯ ম্যাচে ১৬৩ উইকেট, ৯৯৮৬ রান, সর্বশেষ ১০ ওয়ানডে ৩৪৭ রান যার ব্যাটিং গড় ৪৩.৮৭ রান, ২১৮টি ওয়ানডেতে ৪৯৫০ রান যার ব্যাটিং গড় ৩৫.৩৫ এবং স্ট্রাইক রেট ৭৬.১৭, বিশ্বকাপে ২টি সেঞ্চুরী এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটে নির্ভরযোগ্য ও অভিজ্ঞ অলরাউন্ডডার যা বার বার তিনি প্রমান করেছেন। উল্লেখ্য যে, বিশ্রামের কথা বলে এর আগে আয়ারল্যান্ড সিরিজ থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয় এবং এবারও সেটার পুনরাবৃত্তি হয়েছে যার যুক্তি নির্বাচকগন খন্ডন করতে পারে নাই বলে চলে।

অন্যদিকে, নাঈম শেখ ৪টি ওয়ানডে ১০ রান যার ব্যাটিং গড় ৩ .৩৩ ও স্ট্রাইক রেট ৩২ .২, আফিফ হোসেন ব্রুব ২৮টি ওয়ানডে ৫৪৬ রান যার ব্যাটিং গড় ২৮ .৭৩, স্ট্রাইক রেট ৮৭ .৫০ ও ৩ উইকেট; শেখ মেহেদী ৩টি ওয়ানডে ২৪ রান যার ব্যাটিং গড় ৮, স্ট্রাইক রেট ৭২.৭২ ও ২ উইকেট এবং শামীম পাটোয়ারীর আর্ন্তজাতিক পরিসরে ওয়ানডে খেলার কোন অভিজ্ঞতা নাই।

এজন্য হয়তো কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট বলেছেন, “রিয়াদের বদলি হওয়ার মতো পারফম্যান্স কারও নেই। “ সত্যিই তাই গত ১ বছরে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের মতো ঐ পজিশনে কেউ ভাল পারফম্যান্স করতে পারে নি। যার ফলে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এখনো প্রাসঙ্গিক। তাহলে নির্বাচকগন, টিম ম্যানেজমেন্ট ও বিসিবির মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে এশিয়া কাপ স্কোয়াডে রাখতে সমস্যা কোথায়?

বিভিন্ন গনমাধ্যমে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বাদ পড়ার পিছনে যে কারনগুলো ফুটে উঠেছে ঃ

প্রথমত, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ফিট না ও খেলার মধ্যে নাই। প্রকৃতপক্ষে ফিটনেস টেস্টে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ পেয়েছেন ১৭.৫০ এবং সর্বোচ্চ পেয়েছেন শান্ত ১৯.৫০। ১৭ ও ১৯ এর মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই বললে চলে। সে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছেন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে গত ৬ মার্চ, ২০২৩ইং এবং ঘরোয়া লীগে মোহামেডানের পক্ষে ম্যাচ খেলেছেন ১৩ মে, ২০২৩ইং ও করেছেন ৪২ বলে ৬১ রান ও প্রায় ৮ ওভার বল করেছেন। আধুনিক ক্রিকেটে লোয়ার মিডল অর্ডারে ব্যাট করেন এমন ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইক রেট ৭৬ প্রায় অকল্পনীয়। সুতরাং রিয়াদ খেলার জন্য শতভাগ ফিট ও খেলার মধ্যে রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, বিয়াদের বয়স বেশি হওয়ায় সে ভাল ফিল্ডার নয়। শেষ দিকে পাকিস্থানের ইনজামাম ফিল্ডিং ভাল না হলেও দলে থাকতো অভিজ্ঞতার জন্য। সুতরাং তাঁর থেকে রিয়াদ অনেক বেশি ভাল ফিল্ডার। তাকে যদি বিদায় জানাতে হয় যাতে বিসিবির খেলার মাঠ থেকে সম্মান জানানো উচিত। কিন্তু বিসিবি চলে মাইনাস ফর্মূলায় যেটা কখনো একজন সিনিয়র খেলোয়ারের জন্য সম্মান বয়ে আনে না।

তৃতীয়ত, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে এর আগের মেয়াদে একাদশ থেকে সরিয়েছিলেন বাংলাদেশের বর্তমান কোচ চান্ডিকা হাথুরুসিংহে। অনেকের ধারনা, ঠিক ৬ বছর পর আবারও কোচের ব্যক্তিগত রোষানলে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের নাম নেই তাঁর কারনে। যদি সেটা হয় তাহলে বাংলাদেশ দলের জন্য খুবই দুঃখজনক বিষয়।

চতুর্থত, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বিষয়ে বিসিবি তেমন একটি আন্তরিক নয়। তবে ধারনা করা হয়, অভিমান করে রিয়াদের যখন টেস্টে অবসর গ্রহন করে তখন থেকে বিসিবি এর সাথে সম্পর্ক ছেদ পড়ে যা বর্তমান পর্যন্ত বলবৎ।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে এশিয়া কাপ দল থেকে বাদ পড়ার কারন সাধারন সমর্থকগোষ্টী ভালভাবে নেয়নি। যার ফলে তারা তামিমের মতো রিয়াদকে দলে অর্ন্তভুক্ত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর হস্তক্ষেপ চায়। অনেকেই বলতে পারেন এটি আবেগ তা ঠিক আছে। আবার এটাও ঠিক যে, আবেগের সাথে ও বাস্তবতাও আছে। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে বর্তমান প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বাদ পড়েছিলেন পরে সমর্থকদের আন্দোলনের কারনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে দলে ফিরেছিলেন। সেই ইতিহাস ২৪ বছর পর হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

অনেকেই বলছেন, বিতর্ক এড়াতে বিশ্বকাপ সামনে রেখে হেড কোচ আর ক্যাপ্টেন এর ইচ্ছামতে, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াড নির্বাচনে নতুন মোড় নিয়েছে। বিসিবি মিরপুরে একটি বিশেষ ক্যাম্প শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেখানে সর্বমোট ৮ জন খেলোয়াড় থাকবে যাদেরকে প্রাথমিকভাবে এশিয়া কাপের স্কোয়াডের জন্য বেছে নেওয়া হয়নি, আসন্ন আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ এর প্রস্তুতির জন্য। তামিম ইকবাল এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এই ক্যাম্পে থাকবেন। এই অনুশীলনকে মাহমুদুল্লাহ যদি না করে দেন বা অনুশীলন করেনও তাহলে ২টি বিষয় তাহলে বল বিসিবির কোর্টে থাকবে।

একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া উচিত, বিসিবি এর অনেকেই বিয়াদকে বাধ্যতামূলক অবসর পাঠাতে চান যা দুঃখজনক। রিয়াদের অবসর তাঁর নিজস্ব অধিকার। সকলের মনে রাখা উচিত, রিয়াদ একজন পেশাদার ক্রিকেটার যার আয়ের উৎস তার খেলাধুলা।

শুধুই ২০১৫ বিশ্বকাপ বললে ভুল হবে। দেশের প্রায় সব বড় জয়গুলোতেই রয়েছে মাহমুদুল্লাহর কম-বেশি অবদান। ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড বধ, নিদহাস ট্রফিতে শ্রীলংকা বধ কিংবা চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কিউই বধ, খুঁজলে বের হয়ে আসবে আরো ছোট-বড় অসামান্য সব উপাদান। কিন্তু দিনশেষে হারিয়ে যান বড় নামের ভিড়ে। আড়ালে পড়ে যায় তার কীর্তিগুলো। বনে যান পার্শ্বনায়ক। পাদপ্রদীপের নিচে থাকাই যেন তার নিয়তি।

লেখক:
সহযোগী অধ্যাপক, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

সর্বশেষ - মুন্সীগঞ্জ