যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ বছর বয়সি এক শিশুকে যৌন নিপীড়ন ও চুরির অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)।
অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম ভোদেলা যশস্বী কোত্তাপল্লি। আইসিই-এর পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (পূর্বের টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে তাকে ‘ক্রিমিনাল ইললিগাল এলিয়েন’ এবং ‘শিশু ধর্ষক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন এবং চুরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
আইসিই জানিয়েছে, কোত্তাপল্লি যুক্তরাষ্ট্রে একজন নথিপত্রহীন অভিবাসী হিসেবে বসবাস করছিলেন। তার বিরুদ্ধে কেবল যৌন অপরাধই নয়, বরং দোকান থেকে চুরি এবং জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে তাকে আইসিই-এর হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং মার্কিন অভিবাসন আইন অনুযায়ী তাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে তার গ্রেফতারের সঠিক তারিখ বা অপরাধের বিস্তারিত তথ্য এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান চলছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ২৫ হাজার ‘বিপজ্জনক অপরাধী অবৈধ অভিবাসীর’ একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে খুনি ও যৌন অপরাধীরাও রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওর্স্ট অফ দ্য ওর্স্ট’ বা সবচেয়ে জঘন্য অপরাধীদের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৯ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত। ভারত সরকারের তথ্য, ২০২৫ সালে ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের আওতায় ৩,৮০০-এর বেশি ভারতীয়কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনেই সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন এবং অপরাধী অভিবাসীদের গণহারে বিতাড়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যদিও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আইসিই-এর এই সাঁড়াশি অভিযান নিয়ে ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকানদের একাংশের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রশাসন তাদের অবস্থানে অনঢ় থেকে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি।


















