মো. শওকত হোসেন, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ):
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহরী এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে ডহরী (চটকী বাড়ি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা। নদীর তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে রাস্তাটির অর্ধেক অংশ ইতোমধ্যে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট অংশও রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। এতে বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিয়ে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ডহরী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির বড় একটি অংশ নদীগর্ভে ধসে পড়েছে। অবশিষ্ট সামান্য অংশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচল করছেন। যেকোনো সময় রাস্তাটির বাকি অংশও নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য এলাকায় দুটি রাস্তা ছিল। এর মধ্যে একটি রাস্তা ইতোমধ্যে নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ইটের সলিং করা রাস্তাটিও অর্ধেক ধসে পড়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদে যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহাগ ও সজিব ফকির বলেন, তাদের সন্তানরা ডহরী (চটকী বাড়ি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়ে যাওয়ার বিকল্প কোনো পথ নেই। রাস্তাটি পুরোপুরি নদীতে বিলীন হয়ে গেলে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন হাওলাদার ও মো. রিয়াদ মুন্সী বলপন,, “বিদ্যালয়ে যাওয়ার দুটি রাস্তা ছিল। একটি আগেই ভেঙে গেছে। বর্তমানে যে ইটের সলিং রাস্তাটি রয়েছে, সেটিরও অর্ধেক নদীতে ধসে পড়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রাস্তাটি পুরোপুরি বিলীন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসী জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা ও প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে অন্তত বিদ্যালয়ে যাতায়াতের বর্তমান রাস্তাটি রক্ষা করা সম্ভব হবে।
ডহরী (চটকী বাড়ি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিদ্যালয়ে যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আজ থেকে জিও ব্যাগ ফেলার কথা রয়েছে।#


















