যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তনের মাধ্যমে ভূ-রাজনীতির এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে, যেখানে পুরনো আন্তর্জাতিক কাঠামো আর কার্যকর নেই। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই বিশ্ব পরিস্থিতিতে নতুনভাবে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে এবং মিত্র রাষ্ট্রগুলোকে তাদের ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।
জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে (এমএসসি) যোগ দিতে ইউরোপ সফরের প্রাক্কালে রুবিও একথা বলেন। এবারের সম্মেলনে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রুবিও।
ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বারবার দেওয়া হুমকি নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদেশগুলোর উদ্বেগ এবং নেটো ও ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক বাড়তে থাকার মধ্যে এটিই প্রথম কোনও বড় বৈশ্বিক সম্মেলন।
রুবিও স্পষ্টভাবে বলেছেন, “পুরোনো বিশ্ব চলে গেছে। যে বিশ্বে আমি বেড়ে উঠেছিলাম। আর আমরা এখন ভূরাজনীতির এক নতুন যুগে বাস করছি। এই নতুন বাস্তবতায় প্রতিটি দেশের ভূমিকা কী হবে তা নতুন করে পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন।”
শুক্রবার মিউনিখে নিরাপত্তা সম্মেলন শুরু হয়েছে। রুবিও ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং নতুন যুগেও মিত্রদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
রুবিওর এই বক্তব্য গত বছরের সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের থেকে ভিন্ন। ভ্যান্স গতবার ইউরোপকে আক্রমণ করে বক্তব্য রেখেছিলেন। তার বক্তব্যে ট্রান্স নজিরবিহীন আটলান্টিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল।
এবারের সম্মেলন উদ্বোধন করে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছেন, “আসুন আমরা মিলেমিশে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কে আস্থা মেরামত এবং পুনরুজ্জীবীত করি।”
সম্প্রতি ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে ইউরোপীয় নেতারা তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন জানিয়েছেন,তিনি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন হুমকির বিষয়ে রুবিওর সাথে আলোচনার পরিকল্পনা করেছেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও এই পরিস্থিতিতে ইউরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে ইউরোপীয়দের এই আস্থা কমে যাওয়ার মুখে মিউনিখ সম্মেলনের আগে নেটোর সাবেক ৮ মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ৮ সুপ্রিম কমান্ডার এক খোলা চিঠিতে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটন যেন পশ্চিমা প্রতিরক্ষা জোটের প্রতি সমর্থন বজায় রাখে।
এবারের মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ইউক্রেইন যুদ্ধ, চীনের সঙ্গে উত্তেজনা এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তি নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আগামী ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারি জেনিভায় রাশিয়া, ইউক্রেইন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবে। ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও ইতিমধ্যে মিউনিখে পৌঁছেছেন।
নেটো মহাসচিব মার্ক রুত্তে এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস এই সম্মেলনে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবেন। অনেক নেটো মিত্র দেশ ২০৩৫ সালের মধ্যে তাদের জিডিপি-র ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সূত্র- বিডি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম


















