শনিবার , ৮ জুলাই ২০২৩ | ৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আরো
  7. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  8. কলাম
  9. কৃষি
  10. খুলনা বিভাগ
  11. খেলাধুলা
  12. গণমাধ্যম
  13. চট্টগ্রাম বিভাগ
  14. জাতীয়
  15. ঢাকা বিভাগ

এলএসডি-আইস দেশে তৈরি হয়নি, পাশের দেশ মায়ানমার থেকে এসেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রতিবেদক
সভ্যতার আলো ডেস্ক
জুলাই ৮, ২০২৩ ৯:১০ অপরাহ্ণ

 

স্টাফ রিপোর্টার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান  বলেছেন, এলএসডি-আইসের মত ভয়ঙ্কর মাদক পাশের দেশ থেকে আমাদের দেশে এসেছে।

শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর হাঁসাড়া ইউনিয়নের আলমপুরে আহসানিয়া মিশনের ‘মনযত্নকেন্দ্র’একটি বিশেষায়িত মাদকাসক্তি ও মানসিক হাসপাতালের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীব বলেন, দাদার আমল থেকেই দেশে মাদক ছিল। সে সময় আফিম, গাঁজা খেয়ে মাদকসেবীরা চোখ লাল করে বসে থাকতো। এরপরে দেশে হেরোইন আসে।হিরোইনের পর ইয়াবা এসেছে।এরপরে এলসডি ও আইস এসেছে।এই সমস্ত ভয়ঙ্কর মাদক আমাদের দেশে তৈরি হয়নি। এসব মাদক এসেছে আমাদের পার্শ্ববর্তী (মায়ানমার) দেশ থেকে। আমাদের সম্ভাবনাময় দেশকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য, আমাদের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে।

 

এসময় মন্ত্রী বলেন, মাদক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পরিধি ছোট ছিল।  প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এটি বিস্তৃত করেছে। এজন্য প্রত্যেকটি জেলায়  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করেছেন। আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশ লোকই কর্মক্ষম যা পৃথিবীর অনেক দেশেই নেই। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের যুব সমাজ রয়েছে। আমাদেরকে কেউ আটকাতে পারবে না। যদি আমাদের যুব সমাজ মাদকের এই ভয়ঙ্কর ছোবলে আটকে যায়, তাহলে বাংলাদেশের উন্নয়নের পথ হারানোর আশঙ্কা থেকে যাবে।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্ডারে আমাদের বিজিবি রয়েছে। পুলিশ, আনসার, র‍্যাব  বাহিনী সবাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকতে বলেছেন। আমরা সেই জায়গায় থাকতে চাই। এজন্য যারাই মাদকের সঙ্গে জড়িত হোক, যারাই মাদক ব্যবসায়ী হোক। তার বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

এসময় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে ঐশির ঘটনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মা-বাবার কাছে সন্তানরা অমূল্য সম্পদ। এজন্য সন্ধ্যায় তারা বাড়িতে থাকে কিনা এটি লক্ষ রাখতে হবে। সন্তানদেরকে সময় দিতে হবে, খারাপ মাদকের ভয়াবহতা উল্টাতে হবে। যদি অভিভাবকরা এগুলো দেখভাল না করে তাহলে আমাদের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যাবে। মাদক ব্যবসায়ী থেকে আমাদের নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে। তা না হলে আমাদের স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন ব্যর্থ হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। দেশ ডিজিটাল হয়েছে। তিনি স্বপ্ন দেখছেন ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ পরিণত করতে। সেভাবেই কাজ চলছে। উন্নত দেশে যেতে আমাদের নতুন প্রজন্মকে, যুবসমাজকে রক্ষা করতে হবে।  এজন্য সবার সহযোগিতা করতে হবে।  জনপ্রতিনিধিদের, মসজিদের ইমাম, প্রত্যেকটি ধর্মযাজকদের সেবা করে এগিয়ে আসতে হবে। ৫০ শয্যার পাঁচ তলাবিশিষ্ট ‘মনযত্নকেন্দ্র’ হাসপাতালটিতে

মাদক নির্ভরশীল ও মানসিক রোগীদের বহুমুখী বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা রয়েছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান

আরও বলেন,  ‘কারাগারে অন্তরীন রয়েছে তার প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারী। স্বাক্ষী প্রমাণের অভাবে এদের কারও কারও বিচার হচ্ছে না।

হাসপাতাল প্রাঙ্গণের আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির ভাষণ দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুল ওয়াহাব ভূইয়া, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. সাবিরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাহিদ রসুল ও পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান আল-মামুন বিপিএম পিপিএম।

আহছানিয়া মিশনের সভাপতি কাজী রফিকুল ইসলাম এতে  সভাপতিত্ব করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন,  এক থেকে দুই মাস পরে বের হয়ে আরও বেশি করে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। এই জায়গায় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট যারা আছেন আপনাদের কাজ করতে হবে। যারা মাদক ব্যবসায়ী তাদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের পুলিশে ধরিয়ে দিতে হবে। গোপনে প্রশাসন ও পুলিশের কাছে তাদের ব্যাপারে জানাতে হবে। আমরা চাই নতুন প্রজন্মকে মাদক দ্রব্যের হাত থেকে রক্ষা করতে। নাহলে যে স্মার্ট বাংলাদেশের আমরা স্বপ্ন দেখি তা বাধাগ্রস্থ হবে।

 

 

সর্বশেষ - বাংলাদেশ