আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন । অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতলো স্পেন। বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও গোলের দেখা পায়নি স্পেন। এর মধ্যে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন এনজো ফার্নান্দেজ। তবে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো গোল না হওয়ায় অতিরিক্ত সময়ে গড়ালো বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ।
ম্যাচ শুরুর কয়েক মিনিটেই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় স্পেন। ম্যাচের ৫ মিনিটেই ভালো সুযোগ তৈরি করে তারা। ইয়ামাল বক্সে ক্রস বাড়ানোর চেষ্টা করেন এবং বলটি ডিফ্লেক্ট হয়ে ওলমোর কাছে চলে যায়। ওলমো দারুণভাবে বলটি আবার তার দিকেই বাড়িয়ে দেন। ইয়ামাল বলটি নিয়ন্ত্রণে নেন। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ প্রচেষ্টায় বলটি জালে জড়াতে পারেনি!
ম্যাচের সময় যত বেড়েছে ততই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে স্পেন। প্রথমার্ধে ৩টি শট নিয়ে ২টা লক্ষ্যে রেখেছে স্প্যানিশরা। তবে আর্জেন্টিনা কোনো শটই নিতে পারেনি।
৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। দুই মিনিট পর ইনজুরির লক্ষণ নিয়ে তিনি নিকোলাস ওতামেন্দির বদলি হন। একই সময়ে কুকুরেয়ার দারুণ একটি প্রচেষ্টা ডানপাশের পোস্টের সামনে দিয়ে মাঠের বাইরে যায়।
প্রথমার্ধে ৫ শতাংশ বল পজেশনে রেখেছিল স্পেন। মাত্র ৩৫ শতাংশ আর্জেন্টিনা। পাসেও দ্বিগুণ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল স্পেন। আর্জেন্টিনার ১৫৫ নিখুঁত পাসের বিপরীতে তাদের ৩১৩!
প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধেও দাপট দেখিয়েছে স্পেন। বেশ কিছু আক্রমণ করে। তবে তা রুখে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ম্যাচের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটের সময় বেপরোয়া ট্যাকল করে স্প্যানিশ খেলোয়াড়কে ফাউল করলে এনজোকে ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান। এর ফলে সঙ্গে সঙ্গেই লাল কার্ডে বহিষ্কার হন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।
অতিরিক্ত সময়ের ৯৬ মিনিটে বল জালে জড়ান নিকো উইলিয়ামস। তবে তা ফাউলের কারণে বাতিল হয়ে যায়। তবে ১০৬ মিনিটে ঠিকই গোল আদায় করে নেয় স্পেন। নিকো উইলিয়ামসের অ্যাসিস্টে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফেরান তোরেস।
১১৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটা করেই ফেলেছিলেন ফেরান তোরেস। কিন্তু অফসাইডে বাতিল হয়েছে সেই গোল। এখনো ম্যাচে ফেরার সুযোগ আছে আর্জেন্টিনার। একটা গোলই শুধু প্রয়োজন।
৯৬ মিনিটে স্পেন ভেবেছিল তারা এগিয়ে গেছে, কিন্তু গোলটি সঙ্গে সঙ্গেই বাতিল করে দেন রেফারি। কারণ, গোলের আগে স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের ওপর ফাউল করেছিলেন বলে সিদ্ধান্ত দেন তিনি।
বিবর্ণ আর্জেন্টিনা
স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের ৯০ মিনিটে একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে এটি তাদের সর্বনিম্ন বল দখলের হার (৩৪ শতাংশ)। আর ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি বল স্পর্শ করেছেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ—যা স্পেনের একতরফা আধিপত্যেরই প্রতিফলন। ৯৪ মিনিট পর্যন্ত ১০টি সেভ করেছেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। অসাধারণ পারফরম্যান্স। আর্জেন্টিনার অনাকাঙ্ক্ষিত ! প্রথম নির্ধারিত সময়ে গোলের জন্য একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ফাইনালে ৯০ মিনিটে একটিও শট নিতে ব্যর্থ হওয়া প্রথম দল তারাই।
লাল কার্ড দেখলেন ফের্নান্দেস
যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলেন এন্সো ফের্নান্দেস। ম্যাচর বাকি সময় একজন কম নিয়ে খেলতে হবে আর্জেন্টিনার।
বলের দখলের জন্য ছুটে যান এই মিডফিল্ডার। কিন্তু বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি তিনি। ফাউল করে বসেন পাউ কুবার্সিকে। সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। কিছুক্ষণ তর্ক করে মাঠ ছাড়েন ফের্নান্দেস। বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড দেখা ষষ্ঠ ফুটবলার তিনি।
যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ফ্রি কিকে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন লামিন ইয়ামাল।কিন্তু ঝাপিয়ে পড়ে ঠেকান এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
স্পেনের বিশ্ব রেকর্ড
চলতি আসরে স্পেন কেবল একটি গোল হজম করেছে। সবচেয়ে কম গোল হজম করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড গড়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন যথাক্রমে ১৯৯৮, ২০০৬ ও ২০১০ সালে শিরোপা জয়ের পথে সবচেয়ে কম দুটি করে গোল হজম করেছিল।
ফাইনালে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনের কোনো সেভ করতে হয়নি। আর্জেন্টিনার কেউ লক্ষ্যে কোনো শট রাখতে পারেনি।

















