সিরাজদিখান প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শুলপুর এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে চাচাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি আদালত ভাতিজা গ্যানেট রোজারিওকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। নিহত ও দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনই মার্কিন নাগরিক। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকার বাসিন্দা ৫৪ বছর বয়সী গ্যানেট রোজারিও বাংলাদেশে তাঁর চাচা মাইকেল রোজারিওকে হত্যার ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করেন। পরে আদালত তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। এর আগে একই ঘটনায় গত বছরের ১০ মার্চ মুন্সীগঞ্জ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক কাজী আবদুল হান্নান গ্যানেট রোজারিওকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার বিবরণে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের শুলপুর গ্রামে পারিবারিক বসতভিটা নিয়ে চাচা মাইকেল রোজারিও ও ভাতিজা গ্যানেট রোজারিওর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ২০২১ সালে তারা বাংলাদেশে এসে ওই বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার দিন ২০২১ সালের ১১ জুন রাত ১২টার দিকে গ্যানেট রোজারিও চাচার শোবার ঘরের জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিলেন। এ সময় ঘরের ভেতর থেকে তাঁকে উদ্দেশ করে গালমন্দ শুনে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে ঘরের ভেতর থেকে একটি শটগান এনে জানালার বাইরে থেকে গুলি ছোড়েন। গুলি মাইকেল রোজারিওর পেট ও তলপেটে বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
আদালতের জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়, গুলি ছোড়ার আগে গ্যানেট চিৎকার করে বলেন,তুই কাল আর সূর্য দেখবি না। ঘটনার পর নিহতের শ্যালিকা ও সিরাজদীখান উপজেলার মজিদপুর গ্রামের বাসিন্দা মল্লিকা রোজারিও বাদী হয়ে সিরাজদীখান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এছাড়া থানার এসআই আবুল কাশেম বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা করেন। ঘটনার রাতেই স্থানীয় পুলিশ গ্যানেট রোজারিওকে একনলা বন্দুক ও গুলিসহ গ্রেফতার করে। পরে তিনি আদালত থেকে জামিন নিয়ে পালিয়ে যান। হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই বছর পর ২০২৩ সালের জুলাইয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। এরপর ২০২৪ সালের এপ্রিলে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়।
মামলার রায় ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল এ টাইসেন ডুভা এবং সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জে ক্লেটন।
মামলাটির তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিস কাজ করে। এছাড়া ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে নিযুক্ত এফবিআইয়ের লিগ্যাল অ্যাটাশে, বিচার বিভাগের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স এবং বাংলাদেশ সরকার তদন্তে সহযোগিতা করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ।

















