বুধবার , ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. Bangladesh
  2. Economics
  3. English version
  4. National
  5. Politics
  6. World News
  7. অন্যান্য
  8. অপরাধ
  9. অর্থনীতি
  10. আইন-আদালত
  11. আন্তর্জাতিক
  12. আবহাওয়া
  13. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  14. কলাম
  15. কৃষি

জামায়াত নেতা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ‘ব্যালটে সিলের’ অভিযোগে উত্তেজনা

প্রতিবেদক
সভ্যতার আলো ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ ১১:৩৯ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ‘ব্যালটে সিল মারছেন’ এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তেজনা দেখা দেয়।

বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের গোদনাইলের ধনকুণ্ডা পপুলার হাইস্কুল কেন্দ্রের উত্তেজনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মমতাজ উদ্দিন মন্তু বলেন, “আমরা রাত ৭টার দিকে এজেন্টদের তথ্য দিতে কেন্দ্রে ঢুকি। মূলত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. বশিরুল হক ভূঁইয়া আমাদের এ সময়েই আসতে বলেন।

“ভেতরে ঢুকে দেখি সব ব্যালট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বাইরেও জামায়াতের লোকজন ছিল। এরা কারা জানতে চাইলে চার-পাঁচজন দৌঁড়ে বেরিয়েও যান। তখন আমাদের সন্দেহ বাড়ে। এবং প্রশাসনে খবর দেই।”

কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. বশিরুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছেন আসনের বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান।

ধানের শীষের প্রার্থীর ভাষ্য, কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জামায়াতে ইসলামীর নেতা। তার সহযোগিতায় কেন্দ্রের ভেতর রাতের বেলায় ব্যালট পেপার খোলা হয়েছে এবং তাতে সিল মারারও প্রস্তুতি নিয়েছিল দলটির নেতাকর্মীরা।তিনি জামায়াতে ইসলামীর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার আমির ছিলেন বলেও নিশ্চিত করেছেন দলটির নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আমির মাওলানা আবদুল জব্বার।

তবে জামায়াত নেতা আবদুল জব্বার বলেন, “মিথ্যা তথ্য দিয়ে গুজব ছড়িয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এটি কাম্য নয়।”

কেন্দ্রটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. বশিরুল হক ভূঁইয়া বলেন, “বিষয়টি নিয়ে বিএনপির লোকজন সিনক্রিয়েট করছে।”

তবে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “কোনো কেন্দ্রে এ ধরনের ঝামেলা হয়েছে কিনা তা শুনিনি। আর ওই নামে আমাদের কোনো নেতা আছেন কিনা তাও জানা নেই।”

এদিকে, খবর পেয়ে ধনকুণ্ডা পপুলার হাইস্কুল কেন্দ্রে যান সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও সেনা কর্মকর্তারা। কেন্দ্রটির ভেতরে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের প্রবেশ ছিল নিষেধ।

বেশ কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে এসে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহীনা ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনের আগে যেসব কাজ করতে হয়, তারা সেগুলোই করছিলেন। ভোটার তালিকা অনুযায়ী ব্যালটের সংখ্যা ঠিক আছে কিনা মিলিয়ে দেখতে হয়। এখানে বাইরের কেউ ছিল না। এখানে দলীয় কোনো আলোচনা হচ্ছিল না। আমি বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করে দেখেছি।”

প্রিজাইডিং কর্মকর্তার জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা নিয়ম অনুযায়ী তাকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি। তিনি আমাদের কাছে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি। তিনি অনৈতিক কোনো কাজও করেননি। আমরা ভোটার তালিকা ও ব্যালট পেপার সবকিছু পরীক্ষা করেছি।”

একই ব্যাখ্যা দিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, “ভেতরে ব্যালটে সিল দেওয়া হচ্ছে- এমন একটা গুজব থেকে স্থানীয় লোকজন ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হন কেন্দ্রের সামনে। তারা কেউ কেউ ঢুকেও পড়েন। কিন্তু বিষয়টা তেমন না। নরমাল প্রসিডিউর অনুযায়ী তিনি ব্যালট পেপারগুলো বিভিন্ন কক্ষের জন্য সংখ্যা অনুযায়ী আলাদা করছিলেন।”

প্রিসাইডিং কর্মকর্তার জামায়াত-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, “তার সঙ্গে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি থাকতে পারে। কিন্তু আমরা তাকে নিয়োগ দিয়েছি স্কুল শিক্ষক হিসেবে। তাছাড়া, আজকের আগ পর্যন্ত তার বিষয়ে এমন অভিযোগ আমরা পাইনি।”

সূত্র- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

সর্বশেষ - মুন্সীগঞ্জ

আপনার জন্য নির্বাচিত