ঢিমেতালো এগোনো লড়াইয়ে আচমকা এক ঝলকে ভেঙে পড়ল পর্তুগালের রক্ষণ। বদলি নেমে দলকে পথ দেখালেন মিকেল মেরিনো। ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দিয়েছেন মিকেল মেরিনো। ফেরান তোরেসের কাছ থেকে বল পেয়ে গোলটি করেন এই বদলি তারকা।
তার একমাত্র গোলে পর্তুগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠল স্পেন।
ডালাসে সোমবার শেষ ষোলোর ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতেছে ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এতে থেমে গেল ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ যাত্রা। ১২ মিনিটে রোনালদোর শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন উনাই সিমন। দারুণ এক আক্রমণে বল পেয়ে জোরাল শট নেন রোনালদো। কিন্তু সেটি ঠেকিয়ে দেন সিমন।
১৭ মিনিটে স্পেনের আক্রমণে পরপর দুবার সেভ করে দলকে রক্ষা করেছেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা। রদ্রি বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যান। তিনি বল বাড়ান ডানদিকে থাকা লামিন ইয়ামালের কাছে। বাঁ পায়ে ভেতরে ঢুকে জোরালো শট নেন ইয়ামাল, তবে সেটি দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন উনাই সিমন। ফিরে আসা বল পেয়ে আবার শট নেন আলেক্স বায়েনা। কিন্তু এবারও স্পেনকে হতাশ করেন সিমন, দুর্দান্ত এক সেভে রুখে দেন সেই প্রচেষ্টাও। ৩৮ মিনিটে নীচে নেমে আক্রমণটা রোনালদোই তৈরি করেছিলেন। পরে জোয়াও ফেলিক্সের হেড স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন ফিরিয়ে দেন। এরপর বক্সের ভেতর দারুণ একটি অ্যাক্রোবেটিক প্রচেষ্টা নেন রোনালদো। তবে সেটিও ঠেকিয়ে দেন সিমন।
স্পেন–পর্তুগালের শেষ ষোলোর ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়েছে। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলই দারুণ কিছু সুযোগ পেয়েছিল এগিয়ে যাওয়ার। পর্তুগালের চেয়ে স্পেনের সামনেই অবশ্য এগিয়ে যাওয়ার বেশি সুযোগ এসেছিল। তবে সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি দে লা ফুয়েন্তের দল।
বিশেষ করে ম্যাচের ৯ মিনিটের মাথায় সূবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল বাইরে মেরেছেন তিনি। প্রথমার্ধে নিচে নেমে আক্রমণ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বক্সের ভেতরও তুলনামূলক সক্রিয় ছিলেন তিনি।
প্রায় ৫৫ শতাংশ সময় পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৫টি শট নিয়ে ছয়টি লক্ষ্যে রাখতে পারে স্পেন। পর্তুগালের ১০ শটের কেবল দুটিই ছিল লক্ষ্যে।
এরই সঙ্গে শেষ হয়ে গেল পাঁচবারের ব্যালন দ’র জয়ী, রেকর্ড ছয় বিশ্বকাপের গোলদাতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়। ক্লাব ফুটবলে অফুরন্ত সাফল্য পাওয়া এই মহাতারকা জাতীয় দলের হয়ে একবার জিতেছেন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, কিন্তু এই সোনালী ট্রফির স্বাদ আর পাওয়া হলো না তার।
শেষ বত্রিশে দুটিসহ চলতি আসরে মোট চারটি গোল করা মিকেল ওইয়ারসাবাল নবম মিনিটেই দলকে এগিয়ে নেওয়ার নিশ্চিত সুযোগ পান। তবে, দানি ওলমোর থ্রু পাস ধরে গোলরক্ষককে একা পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন রেয়াল সোসিয়েদাদের ফরোয়ার্ড।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে দারুণভাবে রক্ষণ সামলানো পর্তুগাল যোগ করা সময় শুরু হতেই এলোমেলো হয়ে যায়। ডি-বক্সের অনেকটাই বাইরে ফ্রি কিক পায় স্পেন। ছোট করে নেওয়া ফ্রি কিকের পর, সতীর্থদের পা ঘুরে বল পেয়ে, দারুণ এক রক্ষণচেরা থ্রু বল বাড়ান ফেররান তরেস আর ছুটে গিয়ে নিখুঁত শটে ব্যবধান গড়ে দেন ওলমোর বদলি নামা মেরিনো।
ছয় মিনিট যোগ করা সময়ের অন্তিম মুহূর্তে ভালো পজিশনে বল পেয়ে হেড করেন বের্নার্দো সিলভা, বল ক্রসবারে ঘেঁষে গিয়ে পড়ে উপরের জালে।
একটু পরেই বাজে শেষের বাঁশি। শুরু হয় স্পেনের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার উদযাপন, আর অন্যপাশে আরেকবার ব্যর্থতার গল্প লিখে হতাশায় নুইয়ে পড়ে পর্তুগিজ শিবির।
ক্যামেরার চোখে ধরা পড়ে রোনালদোর অশ্রুসিক্ত চোখ, বারবার চেষ্টা করেও না পাওয়ার বেদনা নিয়ে শেষ হলো তার বিশ্বকাপ অধ্যায়।

















