মঙ্গলবার , ৭ জুলাই ২০২৬ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. Bangladesh
  2. Economics
  3. English version
  4. National
  5. Politics
  6. World News
  7. অন্যান্য
  8. অপরাধ
  9. অর্থনীতি
  10. আইন-আদালত
  11. আন্তর্জাতিক
  12. আবহাওয়া
  13. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  14. কলাম
  15. কৃষি

পর্তুগালকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে স্পেন, থেমে গেল রোনালদোর বিশ্বকাপ যাত্রা

প্রতিবেদক
সভ্যতার আলো ডেস্ক
জুলাই ৭, ২০২৬ ৩:১১ পূর্বাহ্ণ

ঢিমেতালো এগোনো লড়াইয়ে আচমকা এক ঝলকে ভেঙে পড়ল পর্তুগালের রক্ষণ। বদলি নেমে দলকে পথ দেখালেন মিকেল মেরিনো। ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দিয়েছেন মিকেল মেরিনো। ফেরান তোরেসের কাছ থেকে বল পেয়ে গোলটি করেন এই বদলি তারকা।
তার একমাত্র গোলে পর্তুগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠল স্পেন।

ডালাসে সোমবার শেষ ষোলোর ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতেছে ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এতে থেমে গেল ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ যাত্রা। ১২ মিনিটে রোনালদোর শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন উনাই সিমন। দারুণ এক আক্রমণে বল পেয়ে জোরাল শট নেন রোনালদো। কিন্তু সেটি ঠেকিয়ে দেন সিমন।

১৭ মিনিটে স্পেনের আক্রমণে পরপর দুবার সেভ করে দলকে রক্ষা করেছেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা। রদ্রি বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যান। তিনি বল বাড়ান ডানদিকে থাকা লামিন ইয়ামালের কাছে। বাঁ পায়ে ভেতরে ঢুকে জোরালো শট নেন ইয়ামাল, তবে সেটি দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন উনাই সিমন। ফিরে আসা বল পেয়ে আবার শট নেন আলেক্স বায়েনা। কিন্তু এবারও স্পেনকে হতাশ করেন সিমন, দুর্দান্ত এক সেভে রুখে দেন সেই প্রচেষ্টাও। ৩৮ মিনিটে নীচে নেমে আক্রমণটা রোনালদোই তৈরি করেছিলেন। পরে জোয়াও ফেলিক্সের হেড স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন ফিরিয়ে দেন। এরপর বক্সের ভেতর দারুণ একটি অ্যাক্রোবেটিক প্রচেষ্টা নেন রোনালদো। তবে সেটিও ঠেকিয়ে দেন সিমন।

স্পেন–পর্তুগালের শেষ ষোলোর ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়েছে। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলই দারুণ কিছু সুযোগ পেয়েছিল এগিয়ে যাওয়ার। পর্তুগালের চেয়ে স্পেনের সামনেই অবশ্য এগিয়ে যাওয়ার বেশি সুযোগ এসেছিল। তবে সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি দে লা ফুয়েন্তের দল।

বিশেষ করে ম্যাচের ৯ মিনিটের মাথায় সূবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল বাইরে মেরেছেন তিনি। প্রথমার্ধে নিচে নেমে আক্রমণ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বক্সের ভেতরও তুলনামূলক সক্রিয় ছিলেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বাড়লেও গোলের দেখা মিলছিল না। ৫৬তম মিনিটে পর্তুগালের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে নুনো মেন্দেসের চোট। ইয়ামালকে সফলভাবে সামলানো এই ডিফেন্ডার মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলে তার জায়গায় নামেন নেলসন সেমেদো।
৬৮তম মিনিটে হাইড্রেশন বিরতির পর আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করতে জোয়াও ফেলিক্স ও জোয়াও কানসেলোকে তুলে রাফায়েল লিয়াও এবং দিয়োগো দালতকে মাঠে নামান পর্তুগালের কোচ। তবে ম্যাচের ভাগ্য বদলাতে পারেনি সেই পরিবর্তন।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, তখনই আসে সিদ্ধান্তসূচক মুহূর্ত। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ফেরান তোরেসের নিখুঁত পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জালের দেখা পান বদলি মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো। তার করা গোলই স্পেনকে এনে দেয় মূল্যবান জয়।
শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয়ে শিরোপার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্পেন। অন্যদিকে, সব আশা শেষ হয়ে গেছে পর্তুগালের। শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের, আর শেষ হয়েছে তাদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও।

প্রায় ৫৫ শতাংশ সময় পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৫টি শট নিয়ে ছয়টি লক্ষ্যে রাখতে পারে স্পেন। পর্তুগালের ১০ শটের কেবল দুটিই ছিল লক্ষ্যে।

এরই সঙ্গে শেষ হয়ে গেল পাঁচবারের ব্যালন দ’র জয়ী, রেকর্ড ছয় বিশ্বকাপের গোলদাতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়। ক্লাব ফুটবলে অফুরন্ত সাফল্য পাওয়া এই মহাতারকা জাতীয় দলের হয়ে একবার জিতেছেন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, কিন্তু এই সোনালী ট্রফির স্বাদ আর পাওয়া হলো না তার।

শেষ বত্রিশে দুটিসহ চলতি আসরে মোট চারটি গোল করা মিকেল ওইয়ারসাবাল নবম মিনিটেই দলকে এগিয়ে নেওয়ার নিশ্চিত সুযোগ পান। তবে, দানি ওলমোর থ্রু পাস ধরে গোলরক্ষককে একা পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন রেয়াল সোসিয়েদাদের ফরোয়ার্ড।

সর্বশেষ - মুন্সীগঞ্জ