স্টাফ রিপোর্টারঃ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় কাঞ্চন নদীতে ভেসে পাওয়া এক অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধারের এক মাসের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলম জানান, গত ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ দুপুর আড়াইটার দিকে গজারিয়া থানাধীন বাউশিয়া ইউনিয়নের কাঞ্চন নদীতে এক যুবকের লাশ ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে গজারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে নিহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশটি তার ছোট ভাই মো. শাহজালাল (২৭) হিসেবে শনাক্ত করেন।
শাহজালাল পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। নিহতের পরিবার জানায়, অজ্ঞাত আসামিরা শাহজালালের হাত-পা বেঁধে নৃশংসভাবে হত্যা করে তার অটোরিকশাটি ছিনতাই করে নদীতে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে গজারিয়া থানা পুলিশের একটি দল অভিযান শুরু করে। এসআই (নিঃ) রুবেল সিকদারের নেতৃত্বে তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার পাঁচগাছিয়া এলাকা থেকে নিহতের বন্ধু ইব্রাহিম ওরফে সাগর (২৮) কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে গজারিয়া থানাধীন ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে অপর আসামি ফাহিম (২৪) কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে ফাহিম স্বীকার করেন যে, ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি তিনি ইব্রাহিম ওরফে সাগরের কাছ থেকে কিনে তার বাবা খোরশেদের জীবিকা নির্বাহের জন্য ব্যবহার করতে দেন। পরে ফাহিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কুমিল্লা কোতোয়ালী থানার দাউদেরখাড়া এলাকায় তার বাড়ি থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।


















