সোমবার , ২৫ আগস্ট ২০২৫ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. Bangladesh
  2. Economics
  3. English version
  4. National
  5. Politics
  6. World News
  7. অন্যান্য
  8. অপরাধ
  9. অর্থনীতি
  10. আইন-আদালত
  11. আন্তর্জাতিক
  12. আবহাওয়া
  13. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  14. কলাম
  15. কৃষি

বাঙালির চা বিলাস

প্রতিবেদক
সভ্যতার আলো ডেস্ক
আগস্ট ২৫, ২০২৫ ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

সাজাহান সরদার

ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়। বৃটিশ চা-কোম্পানিগুলি শহর-নগর, হাট-বাজারে বিনে পয়সায় চা পান করাইছে। মনে কইরেন না তা ছিল নির্মল মেহেমানদারি ! খাতিরের আস্তিনের তলে ছিল বাণিজ্যিক কূটবুদ্ধি। চা পানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা , চায়ের বাজার বিস্তৃত করা। কোম্পানির প্রশিক্ষিত এক দল লোক বাহারি রংচং পোশাক পরিধান করে হাট-বাজার-গঞ্জ ও ছোট শহরে উপস্থিত হতো। তারা ঢাক-ঢোল পিটিয়ে কিংবা কলের গান বাজিয়ে নেচে গেয়ে লোকজন জড়ো করতো। ওই সময় দলের চা বানানেওয়ালা একজন কেরোসিনের চুলায় চায়ের কেটলি চাপিয়ে দেয়। তামাশা ও চা-বানানো চলে সমানেসমান। চায়ের ঘ্রাণ ছড়িয়ে দর্শক শ্রোতার নাকের ভিতর দিয়া মরমে প্রবেশ করে। কোম্পানির লোকেরা ঝোঁপ বুঝে কোপ মারে, চলে গণ-চা আপ্যায়ন এবং চা-বন্দনা। চায়ের কবিরাজী গুণের লেকচার। এই গল্প  বাবা কাকা প্রতিবেশীর মুখ থেকে শুনেছি। চা কোম্পানিগুলির এই কৌশল কতটা বাণিজ্যল²ীর সুনজর কড়েছে তা আজ পানির মতো পরিষ্কার। আজ আমাদের দেশের আনাচে-কানাচে চায়ের কেটলি জ্বলে যেমন বিরহী হৃদয় জ্বলে ধিকিধিকি তুষের আগুন
সম। তবে গোঁড়ায় তার বিস্তার ছিল মৃদুমন্দ ।
আমার  জন্ম শহর ষাটের দশকের মহকুমা সদর মুন্সীগঞ্জে চায়ের আড্ডা ছিল সীমিত। মহকুমার থানা সদর এবং পল্লী এলাকায় ছিল না বললেই চলে। দূরের ও কাছের হাট-বাজারে, এমনকি শহরতলীতেও কোনো চায়ের দোকান ছিল না । চা-পান ছিল একান্তই নাগরিক অভ্যাস , নগর সংস্কৃতির অংশ! গ্রামের মানুষ এক-আধটু পান করতেন, তবে তা অভ্যাসবশত নয়, কতকটা শখ শৌখিনতা মিটাতে ।
আমাদের ছোট্ট শহরে গোটা কয়েক চায়ের দোকান ছিল, ছিল চা-আড্ডা! চায়ের দোকানের পাশ দিয়ে যেতে চায়ের গন্ধে মাতাল হতাম, আহা সেই ঘ্রাণ এখনো সুখী করে আমাকে, আমার ঘ্রাণইন্দ্রিয়কে। কিন্ত আফসোস তখন কিশোরদের চায়ের দোকানে পা রাখা তো দূরে থাক তাকানোও ছিল গুণাহর কাজ! চায়ের গ্রাহক ছিলেন শহরের উকিল, মোক্তার, বাটপার, মক্কেল, কেরাণী, দলিল লেখক, শিক্ষক, অধ্যাপক, রাজনীতিক, সাংবাদিক এবং মজুর শ্রেণির লোক, বিশেষত বিড়ির কারিগর ও রিকশা শ্রমিক। শহরতলীর লোক যাঁরা সকাল সন্ধ্যা শহরে আসতেন প্রয়োজনে কিংবা বিনোদনে তাঁরা এক কাপ চা আর এক খিলি পান খেতেন শখের বশে । স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত শহরে চায়ের দোকান ছিল মাত্র খান চারেক ! দোকানের কোনো সাইন বোর্ড ছিল না, মালিকের নামেই দোকানের পরিচয় ছিল, যেমন- জুলহাসের চায়ের দোকান, অমুকের চায়ের দোকান! কিন্তু গ্রাহক বিবেচনায় খান্দান ছিল আলাদা।
ওই সময় কাচারীর পশ্চিমে একটি খাল ছিল।কাচারী পুলের পশ্চিম পাড়ে খালের ওপর ছিল জুলহাসের চায়ের দোকান। এই দোকানে আড্ডা ছিল কোটগাঁও ও দক্ষিণ কোটগাঁওয়ের যুবক ও নানা কিসিমের গরীব শ্রমজীবিদের। আমাদের নেতা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহীদুল আলম সাঈদ এই দোকানে আড্ডা দিতেন । আমান ভাই (কোর্টগাওয়ের রাজাকার আমান), মোকাম্মেল ভাই, অনু ভাই, সুলতান ভাই, এচা ভাই, বাঘা দা-দের চায়ের আড্ডা ছিল এখানে। মন্ডল বাড়ি ও দক্ষিণ কোর্টগাঁয়ের ভাদাইমাগণ এবং কের্ট-কাচারীর দালালরাও এখানে বসতেন, কেউ শিকারের আশায় কেউ বা গল্পগুজব করে অলস সময় কাটাত। আবার হারেজ চাচার মতো জীবন সংগ্রামীরাও চা পিপাসা মিটাতে আসতেন জুলহাস ভাইয়ের চায়ের দোকানে। সাধনার দোতালার জুয়া পার্টির লোকেরা হেরে কিংবা জিতে এখানে আসেন কেউ আনন্দে কেউ বা অশ্রু বিসৃজন দিতে। এরাঁ সকলেই ছিলেন মান্যজন। শুধু আমার নয় আমাদের কারো সাহস ছিল না ওখানে ঢুকে এক কাপ
চা খাই। কাচারীর বটতলায় ছিল আলী হোসেন মুন্সীর চায়ের দোকান। কাচারী ঘেষা এই স্থানটি ছিল শহরের প্রাণকেন্দ্র। আর এটা ছিল শহরের অভিজাত শ্রেণীর বিশেষত মুসলিম লীগ আওয়ামী লীগ নেতাদের চায়ের আড্ডা । ইদ্রিস উকিল, দুদু মিয়া, আজিজ মিয়া, আনোয়ার দেওয়ান, সালাম খলিফা, মালেক মাস্টার প্রমুখ মুসলিম লীগ নেতাদের চায়ের আড্ডা ছিল এখানে। টঙ্গীবাড়ীর সিরাজ মল্লিক মজিবুর মল্লিক এবং দিঘীরপাড়ের করিম মৌলভীরকে আলী হোসেন মিয়ার চায়ের দোকানে দেখেছি। আওয়ামী লীগ নেতা হারুন ভাই চা-আড্ডা করতেন এখানে। আলী হোসেন মুন্সীর চায়ের দোকানটা ছিল কাঠের পাটাতন ঘর। একটা প্রাচীন বটগাছ দোকানটির মাথার ওপর ছাতার মতো ছায়া দিত। এই বটগাছের জন্য এই এলাকার নাম ছিল বটতলা! এই শহরে প্রলেতারিয়েত শ্রেণী যথা- গ্রামের গরীব চাষী, কৃষিজমির দিনমজুর, রিক্সা শ্রমিক, বিড়ি শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নগর দরিদ্রদের চ-আড্ডা ছিল শামসু মিয়ার চায়ের দোকান। দোকানটি ছিল বাজার সংলগ্ন এবং সুবৃহৎ , অর্ধশত লোক এক সংঙ্গে বসে চা-আড্ডা দিতে পারে ! এই দোকানটা সকাল-সন্ধ্যায় শ্রমজীবিদের ভীড়ে গমগম করে। সন্ধ্যায় তা উৎসবে রুপ নেয়। এই উৎসবের হাজিরানদের পনের আনাই ছিল গাঁওগ্রামের লোক, বিশেষত কৃষক আর মজুর। সারাদিনের পরিশ্রম শেষে একটু ভাল কাপড়-চোপড় পরে তাঁরা আসতেন হাফ ছাড়তে, শরীর ও দেহ-মনে রঙ লাগাতে, একটু বিনোদনের ছোঁয়া পেতে! কেউ আসতেন গাভীর দুধ বিক্রি করতে, কেউ তেল নুন কিনতে। সেই উছিলায় শামসু মিয়ার দোকানে চা- আড্ডা। কেউ বা চা-পান খেয়ে সিনেমা দেখবে রাতের শোতে। শামসু মিয়ার চা,বাবুল মিয়ার পান মজনু বিড়ি আর নাইট শো সিনেমা ছিল তাঁদের অনেক আবেগের বিলাসিতা।
শহরের বুদ্ধিজীবিদের চায়ের আড্ডা ছিল থানার পুল, আলীমিয়ার চায়ের দোকানে। আলী মিয়া কাকার চায়ের দোকানটা ছিল থানার পোল খালের ঢালে! লম্বা খুঁটির ওপর কাঠের পাটাতনের ঘর। দোকানটি বিশেষ মর্যাদা কুড়িয়ে ছিল মফস্বল শহরের বুদ্ধিজীবি ও সুশীল সমাজের চরণধুলি পেয়ে। এখানে চা-আড্ডা দিতেন কলেজ ও স্কুল শিক্ষকদের সংস্কৃতিবান অংশ, সাংবাদিকগণ, প্রগতিশীল যুব রাজনীতিকগণ এবং ¯œাতক পড়ুয়ারা। শ্রমজীবীদেরও অবাধ প্রবেশাধিকার ছিল। হরগংঙা কলেজের অধ্যাপক জয়ন্ত কুমার স›ন্যাল, অনিল কুমার চক্রবর্তী,
সুনির্মল চক্রবর্তী, অধ্যাপক মহসিন এবং মুন্সীগঞ্জ হাই স্কুলের শিক্ষক নন্দী বাবু এই পাঁচ পান্ডবের চায়ের আড্ডা বিশেষ ভাবে আলী কাকার চায়ের দোকানকে তারকা খ্যাতি দিয়েছিল। এরা ছিলেন নিত্যদিনের তুখোড় আড্ডাবাজ ! এঁদের সঙ্গে মাঝে মধ্যে যুক্ত হতেন প্রশান্ত ঘোষাল। সাংবাদিক শফি ভাই-কে দেখেছি তাঁর ঝোলা ব্যাগ কাঁধে ন্যাপের জনাকয়েক কর্মী নিয়ে আলী কাকার চায়ের টেবিল মাতিয়ে তাতিয়ে চলছেন। শফি ভাইয়ের সত্যিই অফুরন্ত প্রাণশক্তি ছিল । শহীদ কমরেড প্রেমানন্দ, মানিক দা, অকাল প্রয়াত কাদের ভাইকে দেখেছি আলী মিয়া কাকার চায়ের দোকানের আড্ডায়, ওই আড্ডায় এক-আধবার আমিও ছিলামক! ৭০ দশক থেকে আশির দশক অনিয়মিত আডডা করেছি আলী মিয়া কাকার চায়ের দোকানে। বড়দের সঙ্গে তখন চা-আড্ডা শুরু হয়েছে মাত্র। আড্ডা হয়েছে প্রয়াত সাংবাদিক মোজামমেল হোসেন মন্টু, প্রয়াত আবদুল আজিজ ( মোল্লা মনজিল ) ভাই, নন্দী স্যার এবং আরও অনেকের সংঙ্গে! নব্বই দশকে কাচারীর মোড়ের ছোটকা ঘোষের মিষ্টির দোকানে একটা জমজমাট চায়ের আড্ডা জমে ছিল। যখন বাড়িতে যেতাম তখন ওখানেই আড্ডা দিতাম। ওই আড্ডার নিয়মিত ছিলেন আনিসদা, জামাল মুন্সী, অনুদা, বাঘাদা এবং আওয়ামী ঘরানার অনেকে। আমরা কতিপয় ছিলাম উইকে›‌ড ভিজিটর। পরিণত বয়সে চায়ের আড্ডা হয়নি আমার শহর মুন্সীগঞ্জে! এরই মধ্যে পাল্টে গেছে শহরের মানচিত্র! প্রিয় জুবলীখাল মুছে গেছে, বটতলার বট গাছটা খুন হয়েছে, হারিয়ে গেছে জুলহাস মিয়া, আলী হোসেন মুন্সী, আলী মিয়ার চায়ের দোকান আর আকুল করা চায়ের ঘ্রাণ। গরীবের বন্ধু শামসু মিয়া বেঁচে আছেন কি নেই জানি না। তবু শুধু কালের সাক্ষী হয়ে টিকে আছে শ্রমজীবিদের চা-আড্ডা শামসু মিয়ার চায়ের দোকান!

 

 

সর্বশেষ - মুন্সীগঞ্জ

আপনার জন্য নির্বাচিত

মাটিরাঙা উপজেলা জিয়া পরিষদের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত।

প্রধানমন্ত্রীর সভামঞ্চে থাকছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও

টঙ্গীবাড়ির বেতকায় মাদক বিরোধী মানববন্ধন 

মোবাইল তুলতে গিয়ে সেপটিক ট্যাংকের ভেতর ৪ যুবকের মৃত্যু

রাজবাড়ীর পাংশায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত আহত ১ 

মুন্সীগঞ্জ জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান মারা গেছেন

রামপালে পূর্বশত্রুতার জেরে মিশুক চালককে পিটিয়ে জখম

মুন্সীগঞ্জে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল রাখালের

মুন্সীগঞ্জে তারেক সিফাত স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট  অনুষ্ঠিত

সাইফের দুর্দান্ত শেষ ওভারে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম টাই, ম্যাচ সুপার ওভারে