গত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে কিউবার রাস্তাগুলোর চিরচেনা দৃশ্য ছিল রঙিন সব আকর্ষণীয় পুরনো দামি গাড়ি। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে তীব্র জ্বালানি ঘাটতির মুখে সম্প্রতি সেই চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে, পুরনো পেট্রল নির্ভর গাড়িগুলোর হটিয়ে বৈদ্যুতিক যানবাহন রাস্তাগুলো দখল করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দশকের পর দশক ধরে চলা অবরোধের মধ্যে তেল সংকটের কারণে কিউবার মানুষ এখন ক্রমবর্ধমান হারে বৈদ্যুতিক যানের দিকে ঝুঁকছে।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কমিউনিস্ট শাসিত কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র ভেনেজুয়েলা থেকে দেশটিতে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে । পাশাপাশি কিউবায় তেল রপ্তানিকারী অন্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপের হুমকি দিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘অত্যন্ত গুরুতর ও অভাবনীয়’হুমকি হিসেবে ঘোষণা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধের মধ্যে তেল সংকটের কারণে কিউবার পরিবহন ব্যবস্থা যখন স্থবির হওয়ার পথে, তখন বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারিভাবে পরিচালিত রিকশা ধরনের বৈদ্যুতিক ত্রিচক্রযান।
রাজধানী হাভানার উপকণ্ঠে আলামার এলাকায় এমনই একটি যান চালান ইউজেনিয়ো গেইনজা। তিনি বলেন, “জ্বালানি তেল নেই। আমরা দিনে ১৬টি ট্রিপ দিই। এই এলাকায় চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এখন এটিই।”
কিউবার মানুষের বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারিভাবে পরিচালিত রিকশা ধরনের বৈদ্যুতিক ত্রিচক্রযান। ছবি: রয়টার্স
মারিয়া কারিদাদ গঞ্জালেসের মতো বাসিন্দাদের কাছে এই সরকারি যানগুলো এখন জীবনরক্ষাকারী হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, রেশনিংয়ের এই অর্থনীতিতে চলাচলের জন্য এটিই সাশ্রয়ী উপায়, কারণ ব্যক্তিগত খাতের যানের খরচ অনেক বেশি।
গত সপ্তাহে কিউবা সরকার জ্বালানি সাশ্রয় এবং জরুরি সেবাগুলো সচল রাখতে একটি বড় ধরনের রেশনিং পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বারবারো কাস্তানেদা মনে করেন, নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে এই ঝোঁকই কিউবাকে গতিশীল রাখছে। তিনি বলেন, “এটিই এখন দেশকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করছে। তা না হলে আমরা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়তাম।”
সূত্র- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম


















