নিজস্ব প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের বিদায়ী জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাত দায়িত্বকালীন সময়ের অর্জন, অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরে বৃহস্পতিবার এক আবেগঘন বিদায় বার্তা প্রকাশ করেছেন। ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী অস্থির পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে তিনি ব্যাপক উদ্যোগ নেন এবং বিভিন্ন অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ
বিদায়ী জেলা প্রশাসক জানান, জুলাই ২৪ ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানে মুন্সীগঞ্জে নিহতদের তালিকা প্রণয়ন, শহিদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, দোয়া মাহফিল, “জুলাই স্মৃতি গ্যালারি” স্থাপন এবং ‘চব্বিশের রক্তকথা’ নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়া ১৪ জন শহিদের স্মরণে সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে “এক শহিদ এক বৃক্ষ” কর্মসূচির আওতায় ১৪টি সোনালু গাছ রোপণ করা হয়। শহীদদের কবর সংরক্ষণেও বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উন্নয়ন উদ্যোগ ও বড় প্রকল্প
মুন্সীগঞ্জের অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিবদের সঙ্গে নিয়মিত সভা এবং প্রকল্প তদারকি করা হয়। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে— পুরাতন ফেরিঘাট–মুক্তারপুর–শ্রীনগর পর্যন্ত চার লেন সড়ক, সিরাজদিখানে নার্সিং ইনস্টিটিউট, কাটাখালী খাল খনন, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা সংরক্ষণ, জেলা শিল্পকলা একাডেমি সংস্কার, পৌর ভবন পুনর্নির্মাণ, আড়িয়ল বিল রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প চারটি নতুন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক ভবন, মিরকাদিম ও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় বর্জ্য শোধনাগার প্রকল্প। তিনি জানান, অধিকাংশ প্রকল্প অনুমোদন বা বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে।
গবেষণা ও প্রকাশনা: মুন্সীগঞ্জের ৬২টি দর্শনীয় স্থানের পরিচিতি তুলে ধরে ‘প্রত্নকথা’ নামে একটি বাংলা–ইংরেজি ভ্রমণ গাইড প্রকাশ এবং ভূমি বিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে ‘ভূমিকথা’ পুস্তিকা তৈরি ও জেলার প্রায় ১১ হাজার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মধ্যে বিতরণ করা হয়।
জিআই পণ্য ও নারীবান্ধব উদ্যোগ
সিরাজদিখানের ‘পাতক্ষীর’কে জিআই স্বীকৃতি আনতে ভূমিকা রাখেন তিনি। পাশাপাশি লৌহজংয়ের কাঠের ঘর, মিরকাদিমের ধবল গরু ও আড়িয়ল বিলের মিষ্টি কুমড়াকে জিআই তালিকায় যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
জেলার ৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের জন্য ‘HerSpace’ কমফোর্ট জোন স্থাপন করা হয়েছে।
ক্রীড়া ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি:
জেলায় জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ, জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ও বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।
জুলাই বিপ্লব কর্মসূচির আওতায় জেলা পরিষদের অর্থায়নে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আবেগঘন বিদায়ী বার্তা
শেষ বার্তায় বিদায়ী জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাত বলেন— তিনি দায়িত্ব পালনকালে নিজের আচরণে বা কাজে কেউ মনঃক্ষুণ্ন হয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে নেন। মুন্সীগঞ্জবাসীর আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও সহযোগিতাকে তিনি আজীবন মনে রাখবেন বলেও উল্লেখ করেন।
পরিবার ও নিজের জন্য সবার দোয়া কামনা করে তিনি বলেন— “মুন্সীগঞ্জ ভালো থাকুক সবসময়।”


















