স্টাফ রিপোর্টারঃ
উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও জীবনমুখী করার লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে সারা দেশের অধিভুক্ত কলেজসমূহে বিরাজমান সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্দেশ্যে জেলা কলেজ মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন সেল গঠন করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৫ আগস্ট) মুন্সীগঞ্জ জেলায় প্রথম মতবিনিময় সভার মাধ্যমে কার্যক্রমের সূচনা হলো।
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, “কলেজ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কলেজ পরিচালনা পর্ষদ, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক, আইনজীবী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে কলেজগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা প্রদান করা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি কলেজগুলোর জনবল ও অবকাঠামোগত অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং শিক্ষকগণের পাঠদান নিয়মিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাতের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান, সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নাজমুন নাহার, বিক্রমপুর আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওয়াহিদুর রহমান খান, আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. আজিজুল ইসলাম এবং মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী হুমায়ূন রশীদ।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি বাছির উদ্দিন জুয়েল এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন দপ্তরের পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদ।
সভায় প্রদত্ত মতামতগুলো মনোযোগ সহকারে শোনেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনায় যুক্ত করার আশ্বাস দেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনায় প্রতিটি জেলায় একজন খ্যাতনামা শিক্ষাবিদের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের কলেজ মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন সেল গঠন করা হচ্ছে। এই সেলে থাকবেন তিনজন অধ্যক্ষ (যাদের একজন মহিলা), জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক-শিক্ষা, জেলা শিক্ষা অফিসার, জেলা বার কাউন্সিল সভাপতি, প্রেসক্লাব সভাপতি, জেলা এফবিসিসিআই সভাপতি, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও অভিভাবক প্রতিনিধি, দুইজন শিক্ষক প্রতিনিধি, চারজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি (যাদের মধ্যে দুইজন ছাত্রী) এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রতিনিধি।
পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় এই সেল গঠন করা হবে। তবে মুন্সীগঞ্জ জেলায় অনুষ্ঠিত সভার মধ্য দিয়েই সূচনা হলো এই জাতীয় উদ্যোগের।

















