স্টাফ রিপোর্টার :
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঐতিহ্যবাহী বাউশিয়া মোহাম্মদ আব্দুল আজহার উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট না থাকা সত্ত্বেও খণ্ডকালীন তিন শিক্ষককে বহালের দাবিতে অযৌক্তিক আন্দোলন করেছে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, বাউশিয়া মোহাম্মদ আব্দুল আজহার উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৬২৪ জন। বিদ্যালয়ে এমপিভুক্ত ১৩ জন এবং সরকারি নিবন্ধনকৃত ৩ জনসহ মোট ১৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়া এবং শিক্ষক সংকট না থাকায় ম্যানেজিং কমিটি আলোচনার মাধ্যমে খণ্ডকালীন শিক্ষকদের বিদায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর প্রেক্ষিতে অব্যাহতি পাওয়া খণ্ডকালীন শিক্ষকরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভুল বোঝিয়ে তাদের বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামিয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সচেতন অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, খণ্ডকালীন শিক্ষক কামরুজ্জামান প্রধান, রুবেল শেখ ও মনির হোসেনকে বিদ্যালয়ে বহাল রাখার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। শিক্ষার্থীরা আসল বিষয় না বুঝে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকদের প্রভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সর্দার আব্দুল কাইয়ুম বলেন, স্বল্পমেয়াদি একটি প্রকল্পের আওতায় কয়েকজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছিলেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও বিদ্যালয়ের স্বার্থে তাদের রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং শিক্ষক সংকট না থাকায় তাদের আর প্রয়োজন নেই। তাই আলোচনার মাধ্যমে তাদের বিদায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন খণ্ডকালীন শিক্ষক রাখা না রাখার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মহসিন শিকদার বলেন, আমাদের শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে গেছে, ফান্ড নেই। তাই নিয়ম মেনে ম্যানেজিং কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা খণ্ডকালীন তিন শিক্ষকের বহালের দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।


















