দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি চান নেতাকর্মীরা
স্টাফ রিপোর্টারঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন বেগম রহিমা শিকদার। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ও জেলা মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্ররাজনীতি থেকে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে সরকারি হরগঙ্গা কলেজ ছাত্রদলেও সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তীতে মহিলা দল, জেলা বিএনপি ও কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কেন্দ্রীয় মহিলা দলের গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদিকা ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদিকার দায়িত্বও পালন করেছেন।
১৯৭৯ সালের বিএনপির প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর সময় থেকে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কথা উল্লেখ করে রহিমা শিকদার বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রতিটি রাজনৈতিক সংগ্রামে তিনি মাঠে ছিলেন। সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান রতন-এর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে সমন্বয় করে বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান।
রাজনীতির পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও তার সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ সমবায় মার্কেটিং সোসাইটি লিমিটেডের নির্বাচিত সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশন, পল্লী উন্নয়ন বোর্ড পরিচালনা পরিষদ, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি ও খাস জমি বন্দোবস্ত কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্যবসা ক্ষেত্রে তিনি টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে সম্পৃক্ত। পাশাপাশি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমেও তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। করোনাকালীন সময়ে অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন ও পৃষ্ঠপোষকতা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সহায়তা প্রদান করেন। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে রাজনৈতিক সহিংসতায় স্বামী মরহুম রেজাউল কবিরসহ পরিবারের একাধিক সদস্যকে হারানোর বেদনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দল ও আদর্শের প্রশ্নে তিনি সবসময় আপসহীন ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, হামলা-মামলা ও সম্পত্তি দখলের মতো ঘটনাও তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।
স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দাবি, মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া) এলাকার জনগণের সঙ্গে দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্ক, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক দক্ষতা ও ত্যাগের ইতিহাসের ভিত্তিতে বেগম রহিমা শিকদার সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য যোগ্য প্রার্থী। তারা তাকে জাতীয় সংসদে দেখতে চান এবং আশা করছেন দল তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করবে।
মনোনয়ন পেলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বেগম রহিমা শিকদার।


















