আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম – ৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগের সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি নগরীর হামজারবাগ এলাকায় গণসংযোগ করছিলেন। মি. উল্লাহর পায়ে গুলি লেগেছে বলে জানা গেছে। চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে তাকে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন দুইজন।পুলিশ জানিয়েছে, মাগরিবের নামাজের পর গণসংযোগের সময় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। এরশাদ উল্লাহ চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ সন্ধ্যায় বলেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে নগর বিএনপির আহ্বায়কসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
এরশাদ উল্লাহ বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, এরশাদ উল্লাহ আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। তাঁর পেটে ছররা গুলি লাগে।
৩ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। সেখানে চট্টগ্রাম–৮ আসন থেকে এরশাদ উল্লাহর নাম ঘোষণা করা হয়।
এদিকে জনসংযোগে অংশ নেওয়া সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা (৪৩) গুলিতে নিহত হয়েছেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে বিএনপি বলছে, সরোয়ার তাদের কেউ নন। গণসংযোগে শত শত লোক অংশ নেন। এর আগে বিকেলে নগরের চালিতাতলী এলাকায় চট্টগ্রাম–৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর সঙ্গে প্রচারণায় অংশ নেন সরোয়ার। এতে এরশাদ উল্লাহ, সরোয়ার ও শান্ত নামের তিনজন গুলিতে আহত হন। তাঁদের মধ্যে সরোয়ারের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানায়, সরোয়ারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, হত্যাসহ ১৫টি মামলা রয়েছে।
জানতে চাইলে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদুল কবির বলেন, গুলিতে আহত সরোয়ার মারা গেছেন।
এর আগে গত ৩০ মার্চ নগরের বাকলিয়া অ্যাকসেস রোড এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে গুলি চালিয়ে সরোয়ারকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ওই সময় প্রাইভেট কারে থাকা দুজন ঘটনাস্থলে মারা যান। সেদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান সরোয়ার। পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামিরা জবানবন্দিতে ও পুলিশকে জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের নির্দেশে সরোয়ারকে গুলি করা হয়।
সরোয়ার এক মাস আগে বিয়ে করেন। তাঁর বিয়েতে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহসহ বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে বিএনপির বিভিন্ন সমাবেশে যোগ দিতে দেখা যায় সরোয়ারকে। এই নিয়ে চট্টগামে উত্তেজনা বিরজ করছে। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী সর্তক অবস্থানে রয়েছে।


















